পদ্মা সেতুর অজানা রহস্য

নিঃসন্দেহে পদ্মা সেতু বাংলাদেশের একটি বড় প্রকল্প। এই সেতুটি ঢাকা টু যশোর রেল লাইন সংযোগ থাকবে। এটি হবে দেশের প্রথম লেভেলক্রসিং বিহীন রেললাইন। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসে পদ্মা সেতুতে রেল লাইন ঢাকা যশোর রেল লাইনে ক্রসিং এর জন্য থেমে থাকতে হবে না কোন ট্রেন কে। এরই মধ্যে থাকবে 30 কিলোমিটার রেলপথ। ঢাকা থেকে যশোর যেতে সময় লাগবে 7 ঘণ্টা জায়গায় মাত্র পৌনে দুই ঘন্টা। পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে শুরু করেছে। এবার কাঙ্খিত রেল চলাচলের পালা। আগামী জুন থেকে পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলাচল  শুরু করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রেল কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দিয়েছে সেতু বিভাগ চলতি মাসের শেষের দিকে রেল লাইন বসানোর কাজ শুরু হবে। এর উপর দিয়ে চলাচল করছে অন্যান্য যানবাহন আর কাঠামোর ভেতরে পদ্মা সেতু প্রকল্প। বাস্তবায়নের দায়িত্ব সেতু বিভাগের তারা শুধু রেলপথ ব্যবস্থা করেছে এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষের এই জন্য পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্প চলমান আছে। পদ্মা রেল লিংক প্রকল্প সূত্র জানায়, পরপর কয়েকটি প্রকল্পের কর্মকর্তারা যৌথ পরিদর্শন চালাতেন সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের ফলে কি পরিমান কম্পন হয় তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর 30 জুলাইয়ের শুরু হতে পারে প্রাথমিক পরীক্ষা।

পদ্মা সেতুর অজানা রহস্য

রেলপথ বসিয়ে জোড়া দেয়া হবে এবং এ কাছে অনেক সময় লেগে যেতে পারে বলে জানা গেছে। বর্তমানে যানবাহন চলাচলের সময় পদ্মা সেতুতে দশমিক স্থান পর্যন্ত পৌঁছায় না এইজন্যই কোন সমস্যাই হবে না। সেতু বিভাগ সূত্র জানায় তারা সেতুকে বুঝিয়ে দেয়ার পাশাপাশি রেল কার্যক্রম সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেবে। এর পাশাপাশি যাতে কোন ধরনের সমস্যা না থাকে সেদিকে লক্ষ্য করবে এবং অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতি যাতে না হয় এ বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে প্রকল্পের অধীনে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত অত্যাধুনিক 172 কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। সরকারি অর্থায়ন 8210 কোটি টাকা প্রকল্পের কাজ শুরু হয় 2016 সালের জানুয়ারি মাসে। এ প্রকল্পের ঠিকাদারের চায়না রেলওয়ে গ্রুপ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা পদ্মা রেল লিংক প্রকল্পটির কাজ শুরু করেছে। এগুলো হচ্ছে মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তর। যশোর থেকে পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলাচল শুরুর পরিকল্পনা ছিল সরকারের কিন্তু সময়মতো পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত আগামী জুনে চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

2024 সালের মধ্যে যশোর পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করার কথা প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসারে গত জুন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে 61 শতাংশ পর্যন্ত।অংশের কাজ শেষ হয়েছে 70% এই অংশের দূরত্ব প্রায় 82 কিলোমিটার। এখন প্রায় 20 কিলোমিটার রেললাইন বসানো হয়েছে। প্রকল্পের পরিচালক প্রস্তুতিমূলক কাজ করে অতি দ্রুত শুরু হবে আগামী জুনে। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় মালামাল প্রকল্প এলাকায় চলে এসেছে আরও কিছু মালামাল আসছে। এ কোন ব্যাঘাত ঘটবে না। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায় 30 কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে তিনটি ধাপে বিভক্ত হয়ে। প্রথমভাগে ঢাকা শ্যামপুর থেকে শুরু করে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া পর্যন্ত 0.77 কিলোমিটার। পথের বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদী এছাড়া নিচের অংশে উড়াল রেলপথ নির্মিত হচ্ছে। দ্বিতীয় ভাগ এর আওতায় পড়েছে পদ্মা সেতুর কাছে মাওয়া এই অংশে পদ্মা সেতুর সড়ক পথ থেকে অনেক উঁচুতে নির্মিত হয়েছে। সঙ্গে মিল রেখে 2.58 কিলোমিটার রেলপথ তৃতীয় অংশ নিতে হবে। মাওয়া দিয়ে নির্মিত হয়েছে সড়কপথ।

পদ্মা সেতু সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই উড়ালসড়ক নির্মিত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই অংশেও 4.03 কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হবে। প্রকল্পের আওতায় 172 কিলোমিটার মেইন লাইন 43. 22 কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন অধিগ্রহণ করা হবে 2426 একর জমি। বাংলাদেশ গ্রানাইট পাথর ব্যবহার করা হয় এবং কাঠের বন্ধন এর কারণ হচ্ছে যাতে ট্রেন লাইনচ্যুত না হয়। তবে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ এর কোন পাথর থাকবেনা। অত্যাধুনিক এই উড়ালপথে 120 কিলোমিটার এর বেশি গতিতে ছুটতে পারবে ট্রেন। কতটা আধুনিক করে নির্মাণ করা হচ্ছে রেলপথ পদ্মা সেতু। রেল লিংক প্রকল্প বদলে দেবে রেলস্টেশন হচ্ছে নান্দনিক। এতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাড়বে মাথাপিছু আয়। রেলপথ নির্মাণ শেষ হলে ঢাকা থেকে যশোর যেতে সময় লাগবে মাত্র 15 ঘণ্টা আগে গত প্রায় 7 ঘন্টা প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে রেলপথ চালু হলে নতুন করে লাইন এর আওতায় আসবে মুন্সিগঞ্জ নড়াইল জেলা ঢাকা কেরানীগঞ্জ ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব কমে যাবে। 212 কিলোমিটার চলাচলের জন্য জার্মানি থেকে আনা হবে 5000 হর্সপাওয়ার সম্পন্ন লোকোমোটিভ ইঞ্জিন। যেগুলো 160 কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় রান করতে পারবে এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে থাকবে ট্রেনের মাধ্যমে 160 কিলোমিটার বেগে ছুটে চলা ট্রেনকে বারোশো পঞ্চাশ বছরের কম দূরত্বের মধ্যে সম্পন্ন থামিয়ে দেয়া যাবে ফলে অনায়াসে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। এই ট্রেন যে কোন দিকে চলতে পারবে সূত্র জানিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের জন্য হবে এই সেতুটি এক মাইলফলক। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় লাগার জন্য যথেষ্ট অসন্তোষ। যদিও রেল কর্তৃপক্ষ বলছে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পের কাজ।


শেয়ার করুন