টাঙ্গাইলের বিশ্ব রেকর্ড ২০১ গম্বুজ মসজিদ

টাঙ্গাইল জেলায় নির্মিত এক অভিনব স্থাপনা 201 গম্বুজ মসজিদ। 2013 সালের জানুয়ারিতে এই মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মসজিদটি এখনো নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মিনারও এই মসজিদের রয়েছে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মিনারের এই মসজিদের পাশে নির্মাণ করা হবে। মসজিদ থেকে মূলত একটি বিশাল কমপ্লেক্স আকারে নকশা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে 201 টি গম্বুজ এবং নয়টি মিনার মসজিদ নির্মাণের অধিকাংশ কাজ প্রায় শেষের দিকে। 201 গম্বুজ মসজিদ টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে অবস্থিত। মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্ট।

টাঙ্গাইলের বিশ্ব রেকর্ড ২০১ গম্বুজ মসজিদ

মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক 100 কোটি টাকা। 2017 সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। মাঝখানে করণা মহামারীর কারণে নির্মাণকাজ বিঘ্নিত হয়েছে ইতোমধ্যে 95 শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। লোকমুখে শোনা যায় নির্মাণ শেষ হলে পবিত্র কাবা শরীফের ইমাম মসজিদ উদ্বোধন করবেন। পৃথিবীর কোথাও গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ তৈরি করা হয়নি। দুই তলা বিশিষ্ট এই মসজিদটি দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ উভয় দিকেই 144 এই মসজিদে প্রায় 15 হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদের ছাদে ফুট উচ্চতার একটি বিশাল গম্বুজ রয়েছে। এই বড় গম্বুজ এর চারপাশে ছোট ছোট 200 টি গম্বুজ আছে। মসজিদের চারকোনা রয়েছে চারটি মিনার। মিনার উচ্চতা 170 পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম মিনার বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও 180 ফুট উচ্চতার আরো চারটি মিনার রয়েছে। তবে সবচেয়ে উঁচু মূর্তি থাকবে মসজিদের পাশে উচ্চতা হবে 451-457 তলা ভবনের সমান 50 তলা পর্যন্ত সুবিধা থাকবে। নাম রাখা হবে রফিকুল টাওয়ার। 

এই মিনার নির্মাণ সম্পন্ন হলে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনারের পবিত্র কোরআন শরীফে রয়েছে। মসজিদের সামনের মত করে এটি কবরের জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে। মসজিদের নির্মাতা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মারা গেলে তাকে এখানে সমাহিত করা হবে। 201 গম্বুজ মসজিদ কমপ্লেক্স যমুনা নদীর শাখা নদীর তীরে 15 বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। মসজিদের পাশে আলাদা ভবনে দুস্থ নারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। এছাড়া এখানে এতিমখানা বৃদ্ধাশ্রম মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। 2000-18 সাল থেকে এই মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীরা মসজিদটি দেখতে ভিড় করছে। বাংলাদেশের একটি অসাধারণ প্রাচীন স্থাপনার ষাট গম্বুজ মসজিদ ষাটগম্বুজ মসজিদ। বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটি।


শেয়ার করুন