সোশ্যাল মিডিয়ার অজানা রহস্য জেনে নিন

বর্তমান আধুনিক টেকনোলজির যুগে চাইলেও কেউ ঘরে একাকী জীবন কাটাতে পারবে না। যদি কেউ ঘরে বন্দী জীবন কাটায় মনে রাখবেন তবে কিন্তু সে কখনোই একা নয়। তার সাথে এমন এক শক্তিশালী জিনিস রয়েছে যেটি তার খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে ঘুমের ক্ষেত্রেই নজর রাখছে। এই জিনিসটি সেই ব্যক্তিকে দিয়ে নানান ধরনের কাজ করিয়ে নিচ্ছে। শুনলে অবাক হয়ে যাবেন! অদৃশ্য শক্তির কিন্তু নিজে থেকে নিয়ে এসেছে। এমন জিনিস সেটা আর কিছু নয় বর্তমান টেকনোলজি যুগের স্মার্টফোন। বর্তমান যুগের সময় কাটানোর জন্য এটি একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমান যুগে এমন একজনকে খুঁজে পাবেন না যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। যে কোন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ফোনে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব কোনো না কোনো সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। এই সোশ্যাল মিডিয়া গুলো কত শক্তিশালী হয়ে গেছে সেটা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। কিছুদিন আগেও এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপস গুলো তৈরি করা হয়েছিল স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে। কিন্তু বর্তমান যুগে স্মার্টফোনগুলোর তৈরি করা হয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপস গুলো ব্যবহারের সুবিধার জন্য দিন যত বাড়ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার অজানা রহস্য জেনে নিন

সোশ্যাল মিডিয়ার কি অদ্ভুত শক্তি আরো বেশী শক্তিশালী করছে। আর কতটা শক্তিশালী সেটা বুঝতে পারবেন যখন বলব বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপস টুইটারের মাধ্যমে জনসাধারণের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এতদিন পর্যন্ত সাধারণ লোকজন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাহায্যে আমরা নানান ধরনের ইনফরমেশন অর্জন করতে পেরেছি। যদি এই সোশ্যাল মিডিয়ার সত্তিকারের যে উদ্দেশ্য সেই কালো পর্দার মুখোশ খুলে দেই!! তাহলে আপনার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবে। আমরা সাধারন মানুষ প্রত্যেকদিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নির্দিষ্ট নামে চিনে থাকি। কিন্তু আপনি জানেন কি অ্যাপ্লিকেশনগুলো কিন্তু আপনাকে আপনার নামে নয় বরং একটি ইউনিক নাম্বারের মাধ্যমে চেনেন!! সেগুলোর জন্য প্রত্যেকটি মানুষের পরিচয় হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট নাম্বার। এটাকে আইডি নাম্বার বলতে পারি। যেমন ধরুন জেলখানা একজন কয়টি একটি নির্দিষ্ট নাম্বারে চিহ্নিত করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়া ও কিন্তু এইরকম এখানে ব্যবহারকারীদের মত একটি নির্দিষ্ট নাম্বারের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়।

আপনি এটা শুনে হয়তো বিশ্বাস করতে চাইবেন না! একজন মানুষ নিজেকে যতোটুকু বুঝতে পারি বা আইডেন্টিফাই করতে পারি। সোশ্যাল মিডিয়ার থেকে শতগুণ বেশি আপনাকে বুঝতে পারি। একবার ভেবে দেখুন তো এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা হয়েছে ব্যবহারকারী কোন অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে না। ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তারা মুনাফা করতে পারবে।আসলেই কি কোম্পানির লাভবান হচ্ছে না? কিভাবে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ডাটা সংরক্ষণ করছে? তারা ডাটা গুলো সংরক্ষন করে কিভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করছে? কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার অন্তরালে একটি নির্দিষ্ট মানুষের ইমোশন গুলোতে ব্যবহার করছি আর এটা কিভাবে এতটা নিয়ন্ত্রনহীন ইঞ্জিনিয়াররা তৈরি করেছিল। এখন এটাকে কন্ট্রোল করতে পারছে না। আপনি নিশ্চিত প্রমাণ পেয়ে যাবেন আর বুঝতে পারবেন সোশ্যাল মিডিয়া গুলো আপনার কাছ থেকে কি কি কেড়ে নিচ্ছে। প্রথমে আমরা জানবো সোশ্যাল মিডিয়া গুলো কিভাবে সৃষ্টি করে? এই কোম্পানিগুলোর এমন কিছু মানুষ নিয়ন্ত্রণ করছে যারা মানুষজনকে নিজেদের দিকে আরেকজন দিতে সর্বোপরি কাজ করে যাচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ হচ্ছে মানুষের চিন্তাশক্তির বিপরীতে অ্যাপসগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করা যেটা একবার ব্যবহার করার পরে মানুষই তার প্রতি আসক্ত হয়ে যাবে। তাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে যেভাবেই হোক ব্যবহারকারী যেন কোনোভাবেই এই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা বন্ধ না করে। সাধারণত মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কেউ তার প্রশংসা করবে। সেটা তাদের কাছে ভালো লাগবে আর এই সুযোগ নিয়েছেন এই সোশ্যাল মিডিয়ার লোকগুলো। বিভিন্ন অপশন গুলো কে অ্যাড করেছে। যখনই আমরা কোন ছবি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনের আপলোড করছি কিছুক্ষন পর পরই কিন্তু আমরা কমেন্ট দেখার জন্য অ্যাপ্লিকেশন চালু করছি। কারণ আমাদের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বারবার আমাদেরকে মনে করিয়ে দিচ্ছে কেউ হয়তো আমার আপলোড করার ছবিতে প্রশংসা করছে। যদি আপনি সেটা নাও দেখে থাকে সে ক্ষেত্রে বারবার অ্যাপ্লিকেশনগুলো আপনাকে নোটিফিকেশন দিবে। কে আপনার ছবিতে লাইক করেছে, কমেন্ট করেছে তা দেখার জন্য। আপনি নিজেকে যখন ফোন থেকে দূরে থাকতে চাইছেন তখন শুধু বারবার আপনাকে যেকোন মূল্যেই নিজেকে উৎসাহিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। 

একথা স্পষ্ট সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপস গুলো আছে তাদের নিজস্ব প্লান মতাবেক চালিয়ে নিচ্ছে। যেমন আপনার পছন্দ অনুযায়ী ভিডিও ছবি আপনাকে দেখাচ্ছি। তাদের একটা ইন্তেনশন যেকোনো মূল্যে লাইক পাওয়ার জন্য এমন কাজ করতেও দ্বিধা বোধ করছি না। যেটা বাস্তব জীবনে আমাদের জন্য আপলোড করা অনেক কষ্টসাধ্য। এর কোনোটাই কিন্তু কাকতালীয় নয়। বরং বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে আমাদেরকে এগুলো পালন করছে এখন হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে? যদি তাই হয় তাহলে তাতে সমস্যাটা কি? আমরা তো আমাদের সময়গুলোকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পার করছি!! আপনি ঠিকই বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া গুলো আমাদের  সময়গুলোকে সুন্দরভাবে পার করিয়ে দিচ্ছে। সময় গুলোকে খুব সুন্দর ভাবে কাটাতে সাহায্য করছে কিন্তু শুনলে অবাক হয়ে যাবেন তাদের উদ্দেশ্যের কারণ শুনে। যখন আপনি বারবার তাদের অ্যাপসগুলোকে ভিজিট করবেন টাইমপাস করার জন্য  সেখানে তাদের কোনো না কোনো উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকবে। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য মস্তিষ্ক সেটার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে কিন্তু পুনরায় ডোপামিন রিলিজ হওয়া ট্রিগার কিন্তু আপনার আমার হাতে নেই।

রোবট ইনসাইট করে ততোক্ষণে আপনার ছবি নিউজফিডে রাখবে। আপনার ছবি যতক্ষণ নিউজফিডে থাকবে ততক্ষণ আপনি লাইক কমেন্ট পেয়ে যাবেন। যখন আপনার ছবি নিউজ থেকে সরিয়ে নেয়া হবে পুনরায় দেখার জন্য আপনি আবার ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করবেন। আর এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমরা এমন একটি জেলখানায় বন্দি হয়ে গিয়েছি। এই কোম্পানিগুলো যা করাতে চাচ্ছে আমরা কিন্তু সেটাই করে যাচ্ছি। কোম্পানিগুলো উদ্দেশ্য আসলে কি হয়তো আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে? কোম্পানিগুলোর আমাদের সাথে কেন এমনটা করছে? এদের কি উদ্দেশ্য হাসিল হতে পারে? আপনি কোন প্রোডাক্ট কিনবেন কিন্তু তার তার দাম জানতে হবে না। আপনি শুধু সার্চ বারে গিয়ে সার্চ করলেই দেখবেন সেই সকল পণ্যের রিলেটিভ প্রাইস গুলো আপনাকে দেখাচ্ছে। আপনি নিজে এখানে প্রোডাক্ট মানে আপনাকে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। ধরুন আপনার বাসার পাশে কোন দোকানে অফার দেয়া হয়েছে। পণ্যটি হাতে পাওয়ার জন্য এই দোকানটিতে যাবেন আর আপনি যখন দোকানটিতে যাবে পাশাপাশি অন্য কিছু কিনে নিয়ে আসতে পারেন। 

আপনার আশে পাশের দোকানে যখন ফিরি পণ্য বিক্রি করা হয় তখন দেখবেন আপনার থেকে কোন না কোন কাজ তারা হাসিল করে নিচ্ছে। এছাড়াও আপনি যখন ফ্রী পূর্ণ কিনবেন সেই দোকান থেকে আপনার কোন কন্টাক্ট নাম্বার লিস্টে রেখে দেয়া হবে। আপনাকে কোন ফরম ফিলাপ করতে দেয়া হবে। ভেবে দেখুন ফ্রি পর্ন এর বিনিময়ে আপনার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নিলো। ঠিক এমনটাই হয়ে থাকি সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্ম। আমাদের কাছ থেকে সব ধরনের ডেটা সংগ্রহ করে। এন্টারটেইনমেন্টের নামে করছে কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীর নাম, লোকেশন, সেল ফোন নাম্বার এমনকি কি কি বিষয়ে আগ্রহী যে সেটাও জেনে নেয়া হচ্ছে। আমরা কোথায় যাচ্ছি? কার সাথে যাচ্ছি? কোন রেস্টুরেন্টে খাচ্ছি? কোথায় শপিং করছি? কোন ধরনের মুভি দেখছি? এই সকল ধরনের ডেটা সংগ্রহ করে সেই অনুযায়ী আমাদের বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা কয়েক বছর যাবৎ ভিন্ন ভিন্ন কিছু রিয়েলাইজ করেছেন যার নাম দেয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ডিপ্রেশন। সর্বশেষে বলতে চাই, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে যতদূর সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করুন কারণ তারা আপনার সকল ধরনের অ্যাক্টিভিটি লক্ষ্য করে।


শেয়ার করুন