মোবাইল ফোন কে সচল রাখতে করণীয়

ফোন রিস্টার্ট করলে কি হবে? আপনার মোবাইল ফোন কি স্বাভাবিকের চেয়ে একটু ধীর গতিতে চলছে?

এই প্রশ্নের উত্তর হিসাবে বেশিরভাগ লোক আপনাকে প্রথমে আপনার মোবাইল পুনরায় চালু অথবা রিসেট করার পরামর্শ দিবেন। প্রকৃতপক্ষে মোবাইল ফোন রিস্টার্ট করার পর বা যেকোনো কম্পিউটিং ডিভাইস একটু ভালো পারফর্ম করতে শুরু করে। যখন আপনি ফোনকে রিসেট করেন তখন আপনার ফোনে থাকা সকল ডাটা গুলি ডিলিট হয়ে যায়।  ফলস্বরূপ আপনার মোবাইল ফোনের গতি বৃদ্ধি পেতে থাকে অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে যে গতি ছিল পুনরায় সে গতি ফিরে পায়। আপনি যখন আপনার মোবাইল ফোন রিস্টার্ট করেন, এই সময়ে অভ্যন্তরীণভাবে বেশ কিছু প্রক্রিয়া ঘটে যা আপনার মোবাইলের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

মোবাইল ফোন কে সচল রাখতে করণীয়

RAM মেমরি ক্লিনিং:

আপনি যে অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করার পর অনেক বেশি ব্যবহার করেন সেগুলো বন্ধ করে দিলেও সেসব অ্যাপ্লিকেশনের ডাটা (Data) RAM থেকে পুরোপুরি মুছে যায় না। প্রায় সব অপারেটিং সিস্টেমই তাদের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আপনার প্রতিদিনের অ্যাপ্লিকেশনের ডেটা RAM এ সংরক্ষণ করে। ফলস্বরূপ, আপনি যখন সেই নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনটি চালু করেন, এটি তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের মধ্যে আপনার কাছে উপস্থাপন করা হয়। এভাবে র‍্যামে ডেটা জমা হয় এবং আপনি যখন একটি নতুন অ্যাপ্লিকেশন ওপেন করেন যখন আপনার র‌্যামের মেমোরি স্পেস কমে যায়, তখন মনে হয় আপনার মোবাইলটি স্লো হয়ে গেছে। আপনি যদি এই ভরাট RAM স্পেস খালি করতে চান তাহলে আপনাকে আপনার মোবাইল রিস্টার্ট করতে হবে বা ম্যানুয়ালি প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ করতে হবে।রিস্টার্ট করার পরে, যেহেতু র‌্যামের বেশ কিছু ফাইল মুছে ফেলা হয়, নতুন অ্যাপ্লিকেশনগুলি একটু দ্রুত ওপেন হয় এবং তুলনামূলকভাবে মনে হয় যেন মোবাইলটি একটু দ্রুত হয়ে গেছে। তবে প্রতিনিয়ত ও যখন যে কোন এপ্লিকেশন ওপেন করা হয় সে সকল অ্যাপ্লিকেশনের ডাটা কিছু অংশ র‍্যাম গুলিকে নিতে থাকে।  ফলস্রুতিতে প্রতিনিয়ত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের ফলে এরকম ডাটা বৃদ্ধি পেতে থাকে।  ফলস্রুতিতে কয়েক মাস বা বছর খানেক পর পূর্বের তুলনায় অনেকটাই স্লো হয়ে যায় তবে আমরা যদি র‍্যাম কে পুনরায় আগের মতো সক্রিয় করতে চায় তাহলে সে ডাটাগুলো ক্লিন করা আমাদেরকে অবশ্যই প্রয়োজন

সিস্টেম চেক:

যখন আপনার মোবাইল রিস্টার্ট হওয়ার পরে সিস্টেম রিবুট হয়, তখন আপনার অপারেটিং সিস্টেম বিভিন্ন ত্রুটি চেক প্রক্রিয়া চালায় এবং সেই সময়ে নির্দিষ্ট ত্রুটিগুলি ঠিক করার চেষ্টা করে থাকে৷ পূর্বের থাকার ডাটা গুলি ফলে আপনার ফোনকে অনেকটাই স্লো হতে দেখা যায়৷ তবে অনেকেই মনে করে ফোন বন্ধ করে পুনরায় চালু করলেই সেটি ভালো হয়ে যাবে৷ কিন্তু দেখা যায় পূর্বের মতোই ফোনটি কাজ করছে না৷ এক্ষেত্রে ফোন বন্ধ করে পুনরায় চালু করে কোন লাভ হবে না৷ কারন আপনার ফোনের সিস্টেম চেক করে সে পূর্বের দখলকৃত রেম দেখতে পায় ফলশ্রুতিতে সে ধীরগতিতে কাজ করতে থাকে

কত ঘন ঘন আপনার মোবাইল রিস্টার্ট করা উচিত?:

কত ঘন ঘন আপনার মোবাইল রিস্টার্ট করতে হবে তার কোনো নির্দিষ্ট নীতি নেই। এই ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আপনার মোবাইল এবং আপনার উপর নির্ভর করে। আপনি যদি মনে করেন যে আপনার মোবাইলটি পিছিয়ে যাচ্ছে বা ধীরগতিতে চলছে বা গরম করার সমস্যা আছে, তাহলে আপনি যে কোনো সময় এর সিস্টেম রিবুট করতে পারেন। অনেকে পরামর্শ দেয় মোবাইল ফোন রিসেট না করার কিন্তু আমি আপনাদেরকে বলতে চাই যদি মোবাইল ফোন রিসেট করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতো তাহলে কিন্তু মোবাইল কোম্পানি সেট অপশন আপনার জন্য রাখত না। অতএব এ থেকে বুঝতে পারি আপনি আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী ফোনকে রিসেট দিতে পারেন। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও, আপনি সপ্তাহে অন্তত একবার আপনার মোবাইল রিস্টার্ট করতে পারেন যাতে আপনার সিস্টেম ভালোভাবে কাজ করবে এবং সিস্টেমের বিভিন্ন ত্রুটির সমাধান করতে পারবে। তবে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়।

ফোন রিস্টার্ট করার সুবিধা:

  • ফোনের অপারেটিং সিস্টেমে কোনো ত্রুটি থাকলে তা মোবাইল রিস্টার্ট করে সমাধান করা হয়। অথবা সমাধান করার চেষ্টা করুন।
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা মোবাইল চালানোর সময় ফোনের সেটিংস পরিবর্তন করতে ভুলে যাই। ফোন রিস্টার্ট করলে এই সেটিংস রিসেট হয়।
  • ফোন ধীর হবে না এবং হ্যাং হবে না। আর ফোনের পারফরম্যান্সও ভালো হবে।
  • যে ফোনগুলো সপ্তাহে অন্তত একবার রিস্টার্ট হয় এবং যে ফোনগুলো রিস্টার্ট হয় না, সেগুলোর তুলনায় এই ফোনগুলো বেশি টেকে।
  • পুনরায় চালু করার পরে, ফোনটির সামগ্রিক কার্যক্ষমতা ঠিক থাকে। আর গ্রাহকও ফোন ব্যবহার করে সন্তুষ্ট।


শেয়ার করুন