জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অজানা ইতিহাস

বিজ্ঞানীদের হিসাব মতে পৃথিবীর বয়স আনুমানিক পাঁচশ কোটি বৎসর। কিন্তু জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এর সাহায্যে 1300 কোটি বছর আগের ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে। এই অসম্ভব কাজটা কিভাবে সম্ভব করা হলো? সে সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। পৃথিবীতে স্থাপিত দূরবীক্ষণ যন্ত্র গুলো বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বাইরে মহাকাশের টেলিস্কোপ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা প্রতিষ্ঠিত হবার 10 বছর আগে একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণ এর কাজ শুরু হয়েছিল। যার নাম হাবল স্পেস। টেলিস্কোপের দীর্ঘ 1990 সালের 24 এপ্রিল মহাকাশে পাঠানো হয়। হাবল স্পেস টেলিস্কোপের 1990 সালের 20 মে টেলিস্কোপ তার প্রথম ছবিটি পৃথিবীতে পাঠায়। সেই উত্তরসূরি হল জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ 21 সালের 25 ডিসেম্বর করা হয়েছিল। আর 2022 সালের 11 জুলাই টেলিস্কোপ এর প্রথম ছবি প্রকাশ করা হয়। এই স্পেস টেলিস্কোপ থেকেও 100 গুন বেশি শক্তি হাবল স্পেস। টেলিস্কোপের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করবে। তবে হাবল টেলিস্কোপ এর মূল পার্থক্য হলো তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুরু করে অবলোহিত পর্যন্ত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করে ছবি তোলে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অজানা ইতিহাস

জেমস টেলিস্কোপ ছবি তোলে দীর্ঘ ইনফ্রারেড তরঙ্গ ব্যবহার করে। যে কাজগুলো অসমাপ্ত রেখে গেছে  হাভেল টেলিস্কোপ সে কাজগুলোকে সম্পূর্ণ করবে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। সেই কাজগুলোকে পূর্ণতা দিতে চলেছে জেমস স্পেস। টেলিস্কোপ দুটি মূল লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হবে।

  • প্রথমত প্রায় 1400 কোটি বছর আগের মতো জ্বলে ওঠা নক্ষত্রগুলোর ছবি তোলা।
  • দ্বিতীয়তঃ দূর-দূরান্তের গ্রহ গুলো প্রাণ ধারণের উপযোগী কিনা তা খতিয়ে দেখা।

প্রথম প্রকাশিত ছবিটির নাম আছে। এই ছবিটিকে এখনো পর্যন্ত তোলা মহাশূন্যের সবচেয়ে ভালো মানের ছবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এই ছবিতে কয়েক হাজার ছায়াপথের গভীর চিত্র উঠে এসেছে। পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আপনি যদি এক হাত দূরের একটি ধূলিকণার দিকে তাকান তাহলে বিষয়টি যেমন অনেক ক্ষুদ্র হবে তেমনি ভাবে মহাবিশ্বের তুলনায় এই ছবিতে থাকা গ্রহ নক্ষত্র গুলো ঠিক ততটাই সহজ করে। বলতে গেলে ছবির ছায়াপথগুলো মহাবিশ্বের তুলনায় ধূলিকণা ও নয়। বিজ্ঞানীরা এই টেলিস্কোপ এর তথ্যের গুণগতমান বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারছেন। এই টেলিস্কোপ দিয়ে তার চেয়েও অনেক গভীর মহাজগতের চিত্র তুলে আনা সম্ভব। এর ফলে অতি শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে মহাশূন্যের অনেক অজানা বিষয় দেখা এবং তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। এখন প্রশ্ন হল জেমস আগের ছবি কিভাবে ধারণ করেছে? আমরা জানি আলো প্রতি সেকেন্ডে এক লক্ষ 86 হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে।

সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে যে সমস্ত আলো বিচ্ছুরিত হয়েছিল তা আজও মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে মহাজগতের বয়স 1380 কোটি বছর জেমসের টেলিস্কোপ যে ছবি তুলেছে, সেই ছবিগুলো প্রায় এক হাজার 350 কোটি বছর আগে ভ্রমণ শুরু করেছিল। তার মানে এই ছবির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্ব সৃষ্টির একেবারে গোড়ার দিকে ফিরে যেতে পেরেছে। মহাকাশ গবেষণা আলোর বিচ্ছুরণ অনুসরণ করে মহাবিশ্বের রহস্য আরো গভীরে অনুসন্ধান করতে পারবে। নতুন মডেলের গুরুত্ব শেষ হয়ে গেছে বলে মনে হলেও বিষয়টি মোটেও সেরকম নয়। এখনো মহাকাশে অতিবেগুনি রশ্মি দৃশ্যমান আলোর কোন কিছু পর্যবেক্ষণ করতে হলে কাছেই ফিরে যেতে হবে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জেমস এর ব্যবহার করে সমস্যা হতো। জেমসের টেলিস্কোপটি নাসার দ্বিতীয় পরিচালক জেমস এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিনি অ্যাপোলো অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যে অভিযানের মাধ্যমে মানুষ চাঁদের বুকে পা রাখতে পেরেছিল। ইউরোপ আমেরিকা এবং কানাডার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অতিসংবেদনশীল এই যন্ত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া 14 টি দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংস্থা এবং কম্পানি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।

দীর্ঘ 30 বছরের চেষ্টায় দূরবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। যার নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে এক হাজার কোটি ডলার। এখনো পর্যন্ত যতগুলো মহাকাশযান তৈরি করা হয়েছে জেমসের টেলিস্কোপ সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জটিল এবং স্পর্শকাতর। হাবল টেলিস্কোপ মহাকাশে উৎক্ষেপণ ধারণা করা হয়েছিল যন্ত্রটি 15 বছর কার্যক্রম থাকবে কিন্তু যন্ত্রটি পাওয়ার মেরামত ও আপডেট করার। ফলে সম্ভাব্য মেয়াদের দ্বিগুণেরও বেশি সময় প্রায় 32 বছর পরেও দূরবীক্ষণ যন্ত্র টি এখনো কাজ করছে। জেমস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠানোর পরে পরিবর্তন মেরামত করার কোন সুযোগ নেই। কারণ পৃথিবী থেকে এত দূরে গিয়ে এসব যন্ত্র ঠিক করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন আগামী 10 বছরে জেমস স্পেস টেলিস্কোপ অনায়াসে কাজ করতে পারবে। তবেএই মহাকাশযান 30 বছরের জ্বালানি দেওয়া হয়েছে যাতে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হবার পর দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে কাজ করতে পারে। অনেক বিজ্ঞানী হাবল স্পেস টেলিস্কোপের আবিষ্কারকে মানুষের চাঁদে অবতরণের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী আবিষ্কার বলে মনে করেন।

জেমসের টেলিস্কোপ দিয়ে তার চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান তার বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ এই টেলিস্কোপ দিয়ে মহাবিশ্বের শেষ সীমা দেখার ইচ্ছা বিজ্ঞানীদের মহাকাশ সম্পর্কে মানুষের শুধু জানার আকাঙ্খার আছে। না বরং মহাকাশে ভ্রমণ এবং বসবাসের ইচ্ছে হচ্ছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গবেষকেরা চাঁদের মাটিতে সবজি চাষে সফল হয়েছেন। আজ থেকে প্রায় 50 বছর আগের নাসার অ্যাপোলো মিশন এর যে সমস্ত মাটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই মাটিতে ফসল ফলানো হয়েছে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গবেষকরা চাঁদের মাটিতে সবজি চাষে সফল হয়েছেন। আজ থেকে প্রায় 50 বছর আগের নাসার অ্যাপোলো মিশন চাঁদের যে সমস্ত মাটি সংগ্রহ করা হয়েছিল সেই মাটিতে ফসল ফলানো হয়েছে। এই কাজটি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার গবেষকেরা। তাঁদের চাষ করার সবজির নাম মাস্টারজি। দেখুন তিনদিন প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে ফলে অসম্ভবকে সম্ভব করাই পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আরো কি ধরনের জ্ঞান অর্জন করতে পারব সে বিষয়ে বৈদিক ধারণা রয়েছে।


শেয়ার করুন